1. admin@sunnah24.com : admin : Akram Hussain
শুক্রবার, ০৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ১০:১৯ অপরাহ্ন
ব্রেকিং নিউজ:
বিশ্বময় প্রিয়নবী সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহ প্রচার আমাদের উদ্দেশ্য ও স্বপ্ন। সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে পরীক্ষামূলক সম্প্রচার।
প্রধান খবর :
হজ্ব পালনে ইচ্ছুক মহিলার মাহারাম না থাকলে করণীয় কী ? সিজদাবস্থায় উভয় পা যমীন থেকে পৃথক থাকা কুরআনের পর অন্য ধর্মগ্রন্থ পাঠ করা হয় এমন অনুষ্ঠানে কুরআন তিলাওয়াত করার হুকুম কী? যার অবদান ভোলার মতো নয়- আ ফ ম আকরাম হুসাইন চলে গেলেন মানবসেবক মুফতী শহীদুল ইসলাম রহ. -মুফতি আজিজুল হক কাসেমী নিখাদ ভা‌লোবাসার এক নাম “শাইখুল ইসলাম মুফতী তক্বী উসমানী”! মুফতি লুৎফুর রহমান ফরায়েজি বিতর্কিত শিক্ষানীতি বাতিল কর: সৈয়দ আহমদ শফী আশরাফী হেফাজত কোনো মুচলেকা দেয়নি; উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রোপাগান্ডা ছড়ানো বন্ধ করুন কা‌রো ব্যক্তিগত জীবন কেন চ‌র্চিত হ‌বে ফেবুর বৈ‌শ্বিক বাজা‌রে? মুফতি লুৎফুর রহমান ফরায়েজী ইজতেমা মাঠের জরুরী পরামর্শ

সাহাবা মসজিদ কমপ্লেক্স যেভাবে নতুনজীবন পেল!

  • সোমবার, ২১ মার্চ, ২০২২
  • ৩২৭ বার পড়া হয়েছে

 

আমাদের প্রাণপ্রিয় রাসুল মহানবী হযরত মুহাম্মাদ মুস্তাফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বিদায় হজ্জের পর সাহাবায়ে কেরাম রাযিযাল্লাহু তাআ’লা আনহুম আজমাঈন ইসলামের দাওয়াত নিয়ে পৃথিবীর দিকবিদিক ছড়িয়ে পড়েন। পূর্ব পশ্চিম উত্তর দক্ষিণ সবদিক দিয়ে ছিলো তাদের অগ্রযাত্রা। বিশেষ করে হযরত ওমর (রাঃ) ‘র খেলাফতের সময় গোটা পৃথিবী জুড়ে একটা কম্পন শুরু হয়েছিল বলা যায়। এই কম্পনের ধারাবাহিকতায় বাংলা মুল্লুকও ইসলামের আলোয় উদ্ভাসিত হয়। এতদিন খুব জোর গলায় আমরা বলতাম যে ইখতিয়ার উদ্দিন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজিই ছিলেন এই জনপদের প্রথম বলিষ্ট ইসলাম প্রচারক। আর সেটা ছিল ১২০০ শত খৃষ্টাব্দের পরের ঘটনা। কিন্তু কে জানতো যে মাত্র ৬৯০ খৃষ্টাব্দে এদেশ সাহাবাগণের পদধুলিতে ধন্য হয়েছিল। চীনের জুংযু শহরে সাহাবি হযরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস রাযি.’র করব আমাদের সেই সত্যতার সাক্ষী হিসেবে জানান দেয়।

হযরত সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস, হযরত কায়েস ইবনে হুজায়ফা, হযরত ওরওয়াহ ইবনে নওফেল, হযরত আবুল কায়েস ইবনে হারেসা রাযিয়াল্লাহু আনহুম এই চারজন সাহাবার কথা ইসলামি বিশ্বকোষে লিপিবদ্ধ আছে যে তারা এতদ অঞ্চলে ইসলামের দাওয়াতি কাজের প্রথম কাফেলা। তিস্তা বিধৌত রংপুরের লালমনিরহাটের মজদের আড়ায় আবিস্কৃত মসজিদটি সেই পুণ্যাত্মা সাহাবাগণের দাওয়াতি মিশনের অখন্ডনীয় স্মৃতি।

মসজিদটি ধ্বংসাবশেষ উদ্ধারের পর থেকেই এলাকাবাসীর দাবি ছিল “সাহাবা মসজিদ কমপ্লেক্স” নামকরণে এ স্থানে একটি অত্যাধুনিক বৃহদাকারের কমপ্লেক্স নির্মান করা হোক। মনোরম মসজিদের সাথে গড়ে তুলা হোক হেফজ খানা, নূরানি বিভাগ, গবেষণাগার, পাঠাগার, বিশ্রামাগার, ইত্যাদি।

সে লক্ষ্য নিয়েই বাংলাদেশের প্রখ্যাত উলামায়ে দ্বীন মাওলানা মুহিউদ্দীন খান রাহ. শুরু থেকে জনমত সৃষ্টি ও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চালান। কিন্তু তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। পরিশেষে ঘটনার প্রায় ৯ বছর পর অর্থাৎ ১৯৯৬ খ্রিস্টাব্দে ‘সাপ্তাহিক মুসলিম জাহানে’ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের সূত্র ধরে লন্ডন প্রবাসী বাংলাদেশি জনৈক আব্দুল হান্নান সাহেবের সামান্য কিছু অনুদান নিয়ে মাঠে নামেন মাওলানা খান সাহেব রাহ.। স্থানীয়দের নিকট থেকে মসজিদের তলস্থ ১২ শতক জমি দান মূলে এবং চতুর্দিকে ৪০ শতক খরিদের মাধ্যমে মোট ৬২ শতাংশ জমি কমপ্লেক্সের দখলে নেন। যথারীতি দ্বিতল বিশিষ্ট মসজিদের ভিত্তি স্থাপনসহ কয়েকটি আধা-পাকা স্থাপনা নির্মান করেন। কিন্তু আর্থিক টানা-পুড়েনের কারণে নির্মান কাজের গতি স্থবির হয়ে পড়ে। এভাবে কেটে যায় দীর্ঘ ৩২ বছর। এ সময়ের মধ্যে এ স্থানে আগমন ঘটেছে সরকারের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব সহ বিভিন্ন পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা ও দানবীরদের। সকলেই আশ্বাস দিয়েছেন, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ফলে শুধু নামের ফলক নিয়েই দাঁড়িয়ে থাকে এই মসজিদ ও প্রকল্পটি।

২০১৬ খ্রিস্টাব্দে হযরতের ইন্তেকালের ফলে নির্মানাধীন কমপ্লেক্সটি অভিভাবকহীন হয়ে যায়। পরবর্তীতে কাতার ভিত্তিক আল-জাজিরা টেলিভিশনে প্রচারিত প্রতিবেদনের মাধ্যমে লন্ডন প্রবাসী সিলেটী বংশোদ্ভূত, (সুপরিচিত আলেমে দ্বীন প্রিন্সিপাল আল্লামা হাবিবুর রহমান রহ. এর জামাতা) খতিব মাওলানা তাজুল ইসলাম সাহেব মসজিদটি সম্পর্কে জ্ঞাত হন এতে ইসলামের এই ঐতিহাসিক স্থান দর্শনের জন্য তার মন ব্যাকুল হয়ে উঠে।

তিনি ২৮ মার্চ ২০১৯ খৃষ্টাব্দে ছুটে যান কাঙ্খিত মসজিদ প্রাঙ্গণে। দুরাকাত শোকরানা নামাজ আদায় করে এলাকাবাসীর সাথে মতবিনিময় করেন। এলাকাবাসী তাদের আশা আকাঙ্খার কথা খতিব সাহেবের কাছে ব্যক্ত করেন। খতিব তাজুল ইসলাম সাহেব ঘোষণা দেন “সাহাবাদের পদভারে ধন্য এই স্থানে জামে আস-সাহাবা কমপ্লেক্স নামে একটি অত্যাধুনিক স্থাপনা নির্মান করা হবে ইনশাআল্লাহ”।

বিগত ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০ ঈসায়ি মসজিদে আকসা (বায়তুল মুকাদ্দাসের) সম্মানিত ইমাম ও খতিব ড. শায়খ আলী উমর ইয়াকুব আল আব্বাসী ও শায়খ আসগর হুসাইন সহ দেশ বিদেশের বরেণ্য উলামায়ে কেরামের উপস্থিতিতে নতুনভাবে এই প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। অতঃপর পুরোদমে শুরু হলো প্রকল্পের কাজ। ধীরে ধীরে সফল হতে লাগলো এ প্রকল্প।

আলহামদুলিল্লাহ, বৃটেনে অবস্থানরত ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের আর্থিক সহায়তায় এবং খতিব মাওলানা তাজুল ইসলাম সাহেবের বিরামহীন প্রচেষ্টার ফলে সামান্য সময়ের ব্যবধানে গড়ে উঠেছে জামিউস (সাহাবা মসজিদ) কমপ্লেক্স। তার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠা করেছেন “জামিউস সাহাবা মাদ্রাসা”। যেখানে একাধারে হিফজুল কুরআন বিভাগ, নূরানি বিভাগ, কিন্ডারগার্টেন সহ বয়স্ক কুরআন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে পাঠদান চলছে।

সর্বশেষ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২ ঈসায়ি, শুক্রবার, পবিত্র জুমআর নামাজের ইমামতি ও খুতবা প্রদানের মাধ্যমে বহুল কাঙ্খিত সাহাবা মসজিদের বৃহত্তর পরিসরে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন “সাহাবা মসজিদ কমপ্লেক্সে”র স্বপ্নদ্রষ্টা খতিব মাওলানা তাজুল ইসলাম হাফিযাহুল্লাহ। সম্মানিত মুয়াজ্জিনের ভূমিকায় ছিলেন সাহেবযাদায়ে প্রিন্সিপাল রাহ. মুফতি আব্দুর রহমান ইউসুফ হাফিযাহুল্লাহ।

স্থানীয় মুসল্লিয়ানে কেরামের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে পবিত্র জুমআর আনুষ্ঠানিকতা মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয়।

 

ভাল লাগলে এই পোস্টটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই কেটাগরির আরো খবর
© sunnah24 2022 All rights reserved
Theme Customized By BreakingNews